সিপিবির রাজনীতি : একটি সমালোচনার সমালোচনা
বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে কয়েকটি সাময়িকীতে কিছু জানা-অজানা, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তি হঠাৎ করে যেন সিপিবির রাজনীতি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। কয়েকটি পত্রিকায় বুর্জোয়া প্রচারণার ধারায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বিগত দিনের ভূমিকার উগ্র সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন,ইত্তেফাকগোষ্ঠীরসাপ্তাহিক রোববারেবাসন্দ্বীপনামক সাময়িকীতে এ ধরনের কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বুর্জোয়া, প্রতিক্রিয়াশীল মহলগুলো থেকে কমিউনিস্টদের প্রতি সমালোচনার ঢঙে আক্রমণ নতুন কিছু নয়। এসব সমালোচনায় সারবস্তুও থাকে কম। তাই এসব লেখা পাল্টা সমালোচনার যোগ্যতাও রাখে না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পুঁজির শোষণ ও শাসন উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্যে যে দৃঢ় সংগ্রাম পরিচালিত করছে, সেটাই এ ধরনের বুর্জোয়া ধাঁচের সমালোচনার মোক্ষম জবাব।
কিন্তু কিছু আছে বর্ণচোরা। এরা মার্কসবাদী মোড়কে কমিউনিস্ট পার্টির অতীত-বর্তমান কার্যকলাপের নানা সমালোচনার ফিরিশতি হাজির করেছেন। এ ধরনের একটি লেখা ‘তারকালোক’ নামক সাময়িকীতে বাসদের এককালীন ছাত্রনেতা জনাব আলী রিয়াজ লিখেছেন। লেখায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সুদূর অতীতকাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে। এই সমালোচনার প্রতিটি বক্তব্যই পাল্টা সমালোচনাযোগ্য। কারণ বক্তব্যগুলো ভুল এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাছাড়া যেভাবে ভুল বক্তব্য যুক্তিসিদ্ধ করার জন্য মার্কসবাদের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ মার্কসবাদী।
সিপিবি'র রণনীতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পর্কে জনাব আলী রিয়াজ যে বক্তব্য হাজির করেছেন, তার মূল কথা হচ্ছে, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব হলো বুর্জোয়াদের ব্যাপার-স্যাপার এবং এই রণনীতি গ্রহণ করে সিপিবি বুর্জোয়াদের ফাঁদে আটকা পড়েছে! তাঁর এসব যুক্তিতর্ক পড়ে মনে হয় তিনি বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ নন। কারণ কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই জানেন যে শুধু বাংলাদেশেই নয়, উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় সব দেশের কমিউনিস্ট পার্টিরই রণনীতি হচ্ছে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব'। অবশ্য তাঁর এত কিছু জানার কথা নয়, কারণ তিনি তো কমিউনিস্ট সারির লোক নন, ‘বিপ্লবী’ চাদর মুড়ি দেওয়া একজন পেটিবুর্জোয়া বিপ্লবী মাত্র। অথচ ভাব করেছেন যেন এক মার্কসবাদী পণ্ডিত। তাই তাঁর পাণ্ডিত্যের দৈন্য উদঘাটন করা কমিউনিস্ট মাত্রেরই কর্তব্য।
জনাব আলী রিয়াজের লেখা শেষ হলে একই পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যায় তাঁর লেখার গুণ গেয়ে এবং সিপিবির রাজনীতির উপর ফোড়ন কেটে ওয়ার্কার্স পার্টির জনাব হায়দার আকবর খান রনো আবার একপাতা লিখে ফেলেছেন। মওকা পেয়ে তিনি আবারও সেই তাঁর অতিপ্রিয় ও পুরাতন রায়টি ঘোষণা করলেন যে ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতো কোনো কমিউনিস্ট পার্টিই নয়'। জনাব আলী রিয়াজের লেখাটি কালচার করে তিনি এই গুরুসুলভ আপ্ত বাক্যটি প্রয়োগ করেছেন। তারকালোকের পাতায় গুরু-শিষ্যের ভালোই মিলন ঘটেছে। গুরুতো সিপিবিকে কমিউনিস্ট আন্দোলন থেকেই খারিজ করে দিলেন, আর শিষ্য মশাই বলছেন, সিপিবির রণনীতি ভুল, তাই সব ভুল।
তাহলে আসুন দেখা যাক, কার ভুল কোথায়!
রাজনীতিতে ভুল করার প্রতি লেনিনীয় দৃষ্টিভঙ্গি
‘যে ভুল করে না, সেই বিজ্ঞ, তা নয়। তেমন লোক নেই, থাকতেও পারে না। সেই বিজ্ঞ যে খুব গুরুতর রকমের ভুল করে না এবং সহজেই ও শীঘ্রই তা শুধরে নিতে পারে। [লেনিন, ৩১ খণ্ড, পৃ. ৩৫ ]।
রচনা সংকলন, ৩১ রাজনীতিতে ভুল করলে অনেক ক্ষতি হয়। কিন্তু ভুল করার পর আত্মসমালোচনার মাধ্যমে সে ভুল না শোধরালে ক্ষতির পরিমাণ হয় আরো অনেক বেশি। জনাব আলী রিয়াজ বা হায়দার আকবর খান রনো কি রাজনীতিতে ভুলের প্রতি এই লেনিনীয় দৃষ্টিভঙ্গির মর্ম উপলব্ধি করেন? ওনারা অনেক পেরেশানি করে সিপিবির রাজনীতির ভুলের একটি ফর্দ তৈরি করেছেন। এই ফর্দের অধিকাংশই সংগ্রহ করা হয়েছে সিপিবির বিভিন্ন কংগ্রেসের দলিলপত্র থেকে। পার্টি কংগ্রেসে অতীত কার্যাবলীর আত্মসমালোচনা করে যেসব ভুলভ্রান্তির কথা সিপিবি নিজেই উল্লেখ করেছে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments